অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

আজ যশোরের কেশবপুর মুক্ত দিবস

0 15

স্টাফ রিপোর্টার : ৭ ডিসেম্বর কেশবপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা কেশবপুর থানা ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের ম্যাপ সমৃদ্ধ লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করে কেশবপুর এলাকা পাক হানাদার মুক্ত ঘোষনা করেন। মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধারা বুধবার দুপুরে কেশবপুর মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। যুদ্ধকালীন কমান্ডার কাজী রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তৃতা রাখেন, সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কায়ুম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম খোকন, এস এম তৌহিদুজ্জামান, মনিমোহন ধর, ঈমান আলী, আমির হোসেন, সামছুর রহমান, আদিত্য কুমার, নিমাই চন্দ্র প্রমুখ। কেশবপুর ছিল রাজাকারদের শক্ত ঘাটি। পাক সেনা ও রাজাকাররা কেশবপুর উপজেলার চিংড়া, ত্রিমোহিনী ও কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে ক্যাম্প স্থাপন করে নিরীহ বাঙালীদের এখানে ধরে এনে টর্চার সেলে নির্যাতন শেষে মঙ্গলকোট ব্রিজের মাথায় নিয়ে জবাই ও গুলি করে হত্যা করতো। কেশবপুর ছিলো ৮ নং সেক্টরের আওতায়। এর কমান্ডার ছিলেন ম অ মনজুর আলম। তার নের্তৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা, মুজিব বাহিনী ও ডিফেন্সের যোদ্ধারা কেশবপুরের চারপাশ থেকে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা ৭ ডিসেম্বর ভোরে কেশবপুরে প্রবেশ করলে পাক বাহিনীসহ তাদের দোসর রাজাকার আলবদর বাহিনী প্রাণভয়ে কেশবপুর শহরের কালী বাড়ি নামক স্থানে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। এদিন ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা ‘জয় বাংলা শোগান দিয়ে কেশবপুর থানা থেকে পাকিস্থানী পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের ম্যাপ সমৃদ্ধ লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করে কেশবপুরকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করে । এ দিন মুক্তিযোদ্ধারা কেশবপুর শহরে প্রবেশ করলে ডা.গোলাম রব্বানি, ডা.রওশন আলী, আনোয়ার হোসেন বিশ্বাস প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকহানাদার ও রাজাকার, আলবদর বাহিনীর হাতে নিতাই মোদক, সাবান আলী, আব্দুল মতলেব, চাঁন তুল্য গাজী, আলী হাসান, আব্দুল গফফার, কওছার শেখ, তশির গোলদার, তোফাজ্জেল মোড়ল, আব্দুল আজিজ, বজলু রহমান, আব্দুল মালেক, শামছুর রহমান, নূর আলী, নিজাম শেখ, মজিদ দফাদার, কল্যাণ ব্যানার্জী, সুবোধ দেবনাথ, দিলীপ রায়, আব্দুল মজিদ সরদার, মজিদ শেখ, সামসুর রহমান সরদার, ধীরেন্দ্র দেব নাথ, পুলিন সরকার, রমজান মোল্যা, কাবিল, সাহেব সানা, ওয়াজেদ সরদারসহ আরও অনেকে শহীদ হন ।

৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমুদ

এক গৃহবধুকে অপহরণ করে মণিরামপুরে
আটক রাখার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জের পুটিখালি গ্রামের শাহিন শেখের স্ত্রী হাফিজা খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধুকে অপহরণ করে আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধুর স্বামীর শাহিন দাবী করেন, মণিরামপুরের কোনাকোলা গ্রামের দাউদ আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন স্বর্ণালংকার ও অর্থ লোভে অপহনের পর তাকে আটক রেখে ১ সপ্তাহ ধরে নির্যাতন চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে ইকবালের দাবী, প্রেমজ সর্ম্পকের কারনে স্বামীর ঘর ছেড়ে ওই গৃহবধু পাড়ি জমিয়ে তাকে বিয়ে করেছে।
স্বামীর স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মোড়লগঞ্জ উপজেলার বনগ্রামের আব্দুর রশিদ শেখের মেয়ে হাফিজার সাথে একই উপজেলার পুটিখালি গ্রামের জামাল উদ্দিনের পুত্র শাহিনের ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর চাকুরীর কারনে বাড়ি ছেড়ে তারা চট্রগ্রামে চলে গিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করে। সেখানে স্বামী শাহিনের চাকুরীর সুবাদে পরিচয় হয় কোনাকোলা গ্রামের দাউদ আলীর ছেলে ইকবালের সাথে। গৃহবধুর স্বামী শাহিনের অভিযোগ, গত ২৭ শে নভেম্বর তার স্ত্রী হাফিজা খাতুন ব্যাংক থেকে দেড় লাখ টাকা তুলে শহরের একটি রাস্তা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে ইকবাল তাকে জোর পূর্বক অপহরন করে নিয়ে যায়। এ সময় তার স্ত্রীর কাছে নগদ ওই টাকাসহ বিভিন্ন প্রকারের ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিল। সেই অবধী তার স্ত্রী হাফিজাকে গোঁপন স্থানে আটকে রাখে ১ সপ্তাহ ধরে নির্যাতন চালাচ্ছে ইকবাল। এ ব্যাপারে সোমবার গৃহবধুর স্বামী শাহিনের কাছে সাংবাদিকরা মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে দাবী করেন। তবে অভিযুক্ত ইকবালের দাবী করেছে, প্রেমজ সর্ম্পকের কারনে হাফিজা স্বামীর ঘর ছেড়ে পাড়ি জমিয়ে তাকে বিয়ে করেছে। তাকে অপহরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জানতে পেরেছি ইকবার একজনের স্ত্রীকে এনে বিয়ে করেছে। মেয়ে পক্ষ এসে আমার কাছে বিচার চেয়েছে। চেয়ারম্যান সরদার বাহাদুর আলী বলেন, বিষয়টি শুনেছি এবং স্থানীয় মেম্বরকে ঘটনা জানার দায়িত্ব দিয়েছি। মণিরামপুর থানার ওসি মোকারম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনা মোখিক ভাবে জেনেছি, মেয়ে পক্ষ অভিযোগ দিলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমু

Leave A Reply

Your email address will not be published.