অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

দিয়াজ হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনশনে মা

0 10

সত্যের সৈনিক অনলাইন : কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যার বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ সোমবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তাঁর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরে আজ সকাল ১০টা থেকে অনশন শুরু করেন দিয়াজের মা। এ সময় কর্তৃপক্ষের লোকজন তাঁকে সরে যেতে বলেন। তিনি না গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিয়ে যায়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. কামরুল হুদা। তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি সেখান থেকে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।
অনশনরত জাহেদা আমিন চৌধুরী বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এত দিন হয়ে গেছে, এখন পর্যন্ত হত্যা মামলার একজন আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত না সব আসামিকে ধরা হবে, ততক্ষণ আমি এখানে অনশন করব।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছেলের হত্যাকারীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ আনেন। তাঁর অভিযোগ, ‘উপাচার্য খুনিদের রক্ষা করছেন। এই উপাচার্যের অপসারণ চাই। নইলে ছেলে হত্যার বিচার পাব না।’
দিয়াজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আলমগীর টিপু অনুসারীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করে ব্যঙ্গ করেছেন বলে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী জানিয়েছেন। তিনি একটি কাফনের কাপড় শরীরে জড়িয়ে রেখেছেন। হাতে থাকা সাদা কাপড়ে ছেলের হত্যা মামলার আসামিদের নাম লিখে রেখেছেন। তাতে লেখা আছে—‘দিয়াজ হত্যাকারী খুনি আনোয়ার, জামশেদ, আলমগীর টিপুসহ সকল হত্যাকারীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে অপসারণ চাই’।
২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন বাসায় দিয়াজ ছাড়া পরিবারের আর কেউ ছিলেন না। লাশ উদ্ধারের ২২ দিন আগে গত বছরের ১৯ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দিয়াজসহ ছাত্রলীগের চার নেতার বাসায় তাণ্ডব চালান প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা।
কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যাওয়ার আগে দিয়াজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের একটি পক্ষ শুরুতে দিয়াজ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করে। তবে অপর পক্ষ অভিযোগ করে, ৯৫ কোটি টাকার নির্মাণকাজের দরপত্রের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা দিয়াজকে হত্যা করে বাসায় লাশ ঝুলিয়ে রাখেন। দিয়াজের লাশ উদ্ধারের পরদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ২৩ নভেম্বর পুলিশ জানায়, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে—এমন আলামত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মেলেনি। তখন ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের পরিবারসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশ।
ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে গত বছরের ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১০ নেতা-কর্মীকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। পরে ৬ ডিসেম্বর লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়। প্রতিবেদনটি ১ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তার হাতে এসে পৌঁছায়। এতে বলা হয়, দিয়াজকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
দিয়াজ হত্যা মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু (বর্তমানে কমিটি স্থগিত), সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামশেদুল আলম চৌধুরী, ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুল আলম, আবু তোরাব, মিজানুর রহমান, মো. আরমান, আরিফুল হক, আবদুল মালেক ও মনসুর আলম।

২৭ নভেম্বর ২০১৭ ইং/সত্যের সৈনিক/তুহিন রানা

Leave A Reply

Your email address will not be published.