অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

প্রশাসনের অগোচরে কাটা হচ্ছে পাহাড়

9

সত্যের সৈনিক অনলাইন : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের হাসি সিকদারপাড়া ও উত্তর পাহাড়িয়াপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে দুটি ব্যক্তিগত পাহাড় কাটা হচ্ছে। এক মাস ধরে এই পাহাড় কাটা হলেও প্রশাসনের কেউই বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করছেন। অথচ পাহাড় দুটির মধ্যে একটি কাটা হচ্ছে ভূমি কার্যালয়ের নাকের ডগায়।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন কাজে পাহাড়-টিলা কাটা বা অন্য কোনো উপায়ে ভূমিরূপ পরিবর্তন করা যাবে না।
গত রোববার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, চকরিয়া পৌর শহর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে চকরিয়া-বেতুয়া বাজার-কোনাখালী সড়কের ডান পাশে বিএমচর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়। কার্যালয়ের পূর্ব পাশ ঘেঁষে গ্রাম্য সড়ক ধরে ২০০ গজ এগুলেই হাসি সিকদারপাড়া। পাড়ায় ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল ন্যাড়া পাহাড়। পাঁচজন শ্রমিক পাহাড় কেটে পিকআপে ভরছিলেন। পাহাড়টির অর্ধেক ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে।
পাহাড়টির মালিক ফিরোজ মিয়া ও বেলাল উদ্দিন নামের স্থানীয় দুই বাসিন্দা। ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘পাহাড় হলেও জায়গাটি কোনো কাজে আসে না। সমতল হলে বাড়িঘর করতে পারব। প্রতি গাড়ি মাটির জন্য এক শ টাকা করে দিচ্ছেন গাড়ির মালিকরা।’
পিকআপ গাড়িটির মালিক আবদুল খালেক বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ভরাট ও বাড়িঘর তৈরিতে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হয়। তবে পাহাড় কাটতে কারও কাছ থেকে অনুমতি নেননি বলে স্বীকার করেন তিনি। নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এক মাস ধরে প্রতিদিন ভূমি কার্যালয়ের সামনের সড়ক ও পূর্ব পাশের সড়ক দিয়ে পাহাড়ের মাটি নিয়ে বিভিন্ন মালিকের পিকআপ যাচ্ছে। বিষয়টি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে কয়েকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি বিষয়টি কানে নেননি।
এ বিষয়টি অস্বীকার করে বিএমচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমত আলী বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। প্রতিদিন তাঁর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে পাহাড়ের মাটি ভর্তি পিকআপ যাচ্ছে-এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখব।’
বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হাসি সিকদারপাড়া ও উত্তর পাহাড়িয়াপাড়া এলাকায় পাহাড় কাটার খবর পেয়ে ১০-১২ দিন আগে একবার নিষেধ করেছিলাম। এরপর কয়েক দিন বন্ধ ছিল। এখন পাহাড় কাটা হচ্ছে কি না জানি না।’ একইভাবে উত্তর পাহাড়িয়াপাড়া এলাকার অপর একটি পাহাড় কেটে সমান করে ফেলা হচ্ছে। পাহাড়টির মালিক বেলাল উদ্দিন, আবুল শামা ও আবুল কালাম নামের তিন ব্যক্তি। তাঁরাও প্রতি গাড়ি মাটি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান।
চকরিয়া পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এম আর মাহমুদ বলেন, জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করা উচিত। যাঁরা পাহাড় কাটছেন, ফৌজদারি আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা দরকার। তাহলে এলাকায় বিষয়টি দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে পাহাড় কাটা বন্ধের ব্যবস্থা করছি। যাঁরা পাহাড় কেটেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং/সত্যের সৈনিক/তুহিন রানা

Leave A Reply

Your email address will not be published.