অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

মুক্তাগাছায় দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

46

মুক্তাগাছা প্রতিনিধিঃ মুক্তাগাছায় আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন নিয়ে দুই গ্রুপের মিছিল থেকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে মাহাবুবুল আলম মনির বড় ছেলে বিবেকও একজন। তাদেরকে মুক্তাগাছা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর পরই শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন নিয়ে যুবলীগের দুই গ্রুপ পৃথক দুটি সমাবেশ ও র‌্যালির আয়োজন করে। থানার সামনে স্থানীয় ডাকবাংলোর মাঠে বিকেল তিনটায় উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মনির নেতৃত্বে সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন সরকারসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। একই সময় ডাকবাংলোর মাঠ থেকে ১৫০ গজ দূরুত্বে স্থানীয় পৌর সাধারণ পাঠাগার মাঠে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে সন্ধ্যার আগে পৌর সাধারণ পাঠাগার মাঠ থেকে জাহাঙ্গীর আলম ও রবিন সরকারের নেতৃতে মিছিল বের হয়ে স্থানীয় আটানি বাজারের দিকে যায়। এর পেছনেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন সরকার ও যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মনির নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। মিছিল দুটি আটানি বাজার যাওয়ার পরই দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় রুবেল মিয়া, অঞ্জয়, শাকিল, আজহারুল, আশরাফুল ইসলাম, রুহুল আমীনসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। সংঘর্ষের সময় আতংক ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহর জুড়ে। সন্ধ্যার পরই সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যা পর একটি গ্রুপ লাঠি সোটা নিয়ে পুরাতন বাস স্ট্যান্ডে সিঙ্গারের শো’রুমে হামলা চালায়। এ সময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি আজিজুল হক ইদু সিঙ্গারের শো’রুমে অবস্থান করছিল । পরে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে।

উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মনি বলেন, তাদের শান্তি পূর্ন মিছিলে হঠাৎ আটানি বাজার মোড় এলাকায় বিভিন্ন বাড়ির ভেতর থেকে ইট, পাথর ছুড়ে তাদের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ জন্য তিনি যুবলীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলমকে দায়ি করছেন।
মুক্তাগাছা থানার ওসি আখতার মোর্শেদ বলেন, পৃথক দুটি শান্তিপূর্ন মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। হঠাৎ মনিরের মিছিলে আটানি বাজার মোড় এলাকায় সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত কিছু যুবক ইট ,পাথর নিক্ষেপ করলে কিছুটা আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

১২ নভেম্বর, ২০১৭ইং/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমুদ

Leave A Reply

Your email address will not be published.