অনলাইন বাংলা সংবাদ পত্র

দিশাহারা কৃষক, হতাশায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠী -এম এ মোতালিব

114

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের দেশ বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি কৃষিপ্রধান দেশ। যেখানে রয়েছে প্রতিনিয়ত সবুজের হাতছানি। স্মৃতিচারণা করলে অনেকেই যেখানে আজও হারিয়ে যাবে শৈশবের সেই ঝরে পড়া আম কুড়ানোর দিনে। কেউ বা লুকাবে বাঁশবাগানে কাজলা দিদির সনে। কেউ বা আবার নিজের অজান্তেই সেই পল্লীবালার মতো ঝাউ শাখে বনলতা বেঁধে মনের হরষে দোল খাবে। হিমালয়ের পাদদেশে নদীবিধৌত পলি দ্বারা গঠিত কৃষি উপযোগী উর্বর জমি ও আবহাওয়া নিয়ে এ ভূখ- গঠিত হওয়ায় আদিকাল থেকেই আমাদের এই বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা ছিল কৃষিনির্ভর। একসময় এ দেশের কৃষকের ছিল গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু আর রাখালের কণ্ঠে ছিল রাখালিয়া বাঁশির মন উদাস করা সুর। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ ছিল একটি সর্বজনবিদিত প্রবাদ। স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল ছিল এ দেশের গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা। কৃষক ছিল স্বনির্ভর। একমাত্র কেরোসিন ও লবণ ছাড়া জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য কোথাও তাদের যেতে হতো না। খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি ছিল এ দেশের মাটি। সহজ ও স্বল্প পরিশ্রমেই জমিতে পর্যাপ্ত ফসল ফলাত এ দেশের কৃষক।
তখন কৃষি উৎপাদন সহজ ছিল বিধায়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ জীবন ধারণের জন্য বাংলায় এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে, ফলে ভারতের অন্যান্য অংশের চেয়ে এ অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল সব সময়ই বেশি। বাংলার সমৃদ্ধির যুগে কৃষকরা শুধু খাদ্যই উৎপাদন করত না, তারা নিজেদের ও স্থানীয় চাহিদা পূরণের জন্য কৃষি উপকরণাদি, কৃষিভিত্তিক শিল্পজাত ও ভোগ্য পণ্যও উৎপাদন করত। তারা ছিল সহজ-সরল ও উদার মনের অধিকারী। এ ভূখ-ের মানুষের এই সরলতা ও বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ-গোত্রে বিভক্তি এবং অসংগঠিত থাকার সুযোগ নিয়ে আর এ দেশের অঢেল সম্পদের লোভে তুর্কি, মোগল, পাঠান, পর্তুগিজ, মারাঠি, ওলন্দাজ, ফরাসি ও ইংরেজরা এ দেশে এসে কায়েম করে জুলুম, শোষণ, নির্যাতন ও লুটপাটের রাজত্ব। আর তখন থেকেই এ দেশের কৃষকের ভাগ্যে নেমে আসে সীমাহীন দুর্ভোগ। এরপর থেকেই শুরু হয় এ দেশের কৃষকের ইতিহাস জুলুম, শোষণ, নির্যাতন ও বঞ্চনার এক করুণ ইতিহাস।
তার পরও কৃষি এখনো আমাদের গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা। দেশের জাতীয় আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের উৎস হলো কৃষি। দেশের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি মানুষ সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এ দেশের কৃষির সেই সমৃদ্ধ অতীত-ঐতিহ্য আজ কালের গর্ভে বিলীন। বদলে গেছে আমাদের কৃষকের গোলা ও গোয়ালের মালিকানা। বিলীন হয়ে গেছে রাখালের কণ্ঠ থেকে মন-প্রাণ উদাস করা সেই রাখালিয়া বাঁশির সুর। একদিকে নিজের ও সজাতীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও নানাবিধ প্রয়োজন মেটাতে ফসল ফলাতে গিয়ে বিরূপ প্রকৃতির সঙ্গে কঠিন সংগ্রাম, আর অন্যদিকে শাসক শ্রেণীর নির্মম শোষণের বিরুদ্ধে বাঁচার লড়াই -এরূপ দ্বিমুখী কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এ দেশের কৃষক আকাশচুম্বী উন্নয়নের একবিংশ শতাব্দীতে পদার্পণ করেছে। অথচ আজ পর্যন্ত কৃষকের ভাগ্যে আশানুরূপ কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, বরং বর্তমান অবস্থা আরো হতাশাব্যঞ্জক। এ দেশের কৃষি ও কৃষক অতিক্রম করছে এক কঠিন ক্রান্তিকাল। সামনের দিনগুলোর অবস্থা কেমন হবে তা নিয়ে শঙ্কিত আমাদের কৃষককুল।
এখানেই হতাশার শেষ নয়, ধান চাষে কৃষক নিজে যে শ্রম ব্যয় করে, তার চেয়ে বেশি লোকসান দিয়ে ধান উৎপাদন করে। এভাবে প্রতিনিয়ত লোকসান দিয়েই এ দেশের দরিদ্র কৃষক দেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যের প্রায় ৯৮ ভাগ সরবরাহ করছে। তদুপরি ঘূর্ণিঝড় আইলা, নার্সিগ, সিডোর, শিলাবৃষ্টি, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, লবণাক্ততাসহ নানাবিধ সমস্যা মোকাবিলা করেও কৃষক ফসল ফলায় শুধু জীবন ধারণ ও বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান না থাকার কারণে। বর্তমানে অনেক কৃষকই কৃষি কাজ ছেড়ে দিয়ে ভ্যান, রিকশা চালনা বা দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। দরিদ্র কৃষক জনগোষ্ঠীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ জীবিকার অন্বেষণে আজ শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। ফলে শহরাঞ্চলে ছিন্নমূল মানুষের ভিড় দিন দিন বেড়েই চলছে। তারা বস্তিতে, খোলা মাঠে, স্টেশনে বা রাস্তায় মানবেতর জীবন যাপন করছে, অন্যদিকে কাজ না পেয়ে এদের একটা বড় অংশ নানাবিধ অসামাজিক ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। ফলে শহরাঞ্চলে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবণতি ঘটছে।
খাদ্য উৎপাদনের কারিগর কৃষকদের এ করুণদশায় রেখে বর্তমানে এ দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিল্পায়নের দিকে অধিক ঝোঁক পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু কৃষিপ্রধান এ দেশের শিল্পায়ন অবশ্যই কৃষিভিত্তিক হওয়া জরুরি। তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমান বাংলাদেশের প্রধান ও সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্প। কিন্তু বাস্তবতা এই যে এ শিল্পে শুধু দেশের সস্তা শ্রমশক্তি ব্যবহার ছাড়া অন্য প্রায় সব কিছুই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। পক্ষান্তরে দেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানাগুলোর মধ্যে প্রধান দুটি শিল্প হলো পাট ও চিনিশিল্প। অথচ এ দুটি শিল্পের দশা আজ অত্যন্তই করুণ। দেশের তথা এশিয়ার সর্ববৃহৎ পাটকল আদমজীসহ অন্য পাটকলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের চিনিকলগুলোরও একই দশা। যেগুলো সচল আছে, সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি খাতে। এতে পাট ও আখের চাহিদা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে এবং কৃষকরা তাদের ন্যায্য মূল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তারা সেসব ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বরাবরই। আর রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। তারা পণ্যের হাত বদল করে গড়ে তুলছে টাকার পাহাড়। ফলে কৃষকরা দিন দিন ফসল উৎপাদনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এ দেশের কৃষি আরো বেশি দাননির্ভর হয়ে পড়বে, যা ফসল বৈচিত্র্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কৃষকদের পরিশ্রমে কোনো ক্লান্তি নেই, যদি তারা কৃষি উপকরণ অর্থাৎ সার, বীজ, তেল, পানির ব্যবস্থা সময়মতো করতে পারে। তাহলে তারা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে ফসল উৎপাদনে আত্মনিয়োগ করতে পারবে। কিন্তু তাদের এ নিশ্চয়তা দেবে কে! পানির অভাবে যখন ক্ষেত শুকিয়ে যায়, সারের অভাবে যখন ধানগাছের জীর্ণশীর্ণ-টিনটিনে অবস্থা, তখন কৃষকরা সারা দিন লাইন ধরে থেকেও সার, তেল না পেয়ে সন্ধ্যায় হতাশ হয়ে ঘরে ফেরে, আর এসবের অভাবে চোখের সামনে যখন তাদের সবুজ ফসলের ক্ষেত তামাটে আকার ধারণ করে, তখন তারা বুক চাপড়ে মরে। এ ছাড়া তো কোনো উপায় থাকে না তাদের। কারণ তারা তো পরনির্ভরশীল। কারণ, কখন সরকার বা কোনো সংস্থা এগুলো সরবরাহ করবে, তখন তারা সেগুলো ফসলের ক্ষেতে প্রয়োগ করবে। এভাবে কি স্বাধীনভাবে কৃষি উন্নয়ন সম্ভব?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই ব্রিটিশরা এ দেশ থেকে বিতাড়িত হলেও উত্তরের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো দেশের ১৬ কোটি মানুষের বিশাল বাজার দখলের লক্ষ্যে এক ভয়াবহ নীল নকশা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর বিশাল বাজার দখলের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গঠন করা হয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কৃষি চুক্তি ও ট্রিপস চুক্তির সহায়তায় এ দেশের কৃষি পণ্যের বাজারকে ধ্বংস করে দিয়ে তাদের সর্বনাশা সব কৃষি পণ্য ও প্রযুক্তির একচেটিয়া বাজার প্রতিষ্ঠার সব রকম ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করে নিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। এতে যে শুধু দেশের কৃষি ও কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা-ই নয়, স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলছে।
বর্তমানে দেশের কৃষি মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নানাবিধ সংকটে আকণ্ঠ নিমজ্জিত এ দেশের দরিদ্র ও ক্ষুদ্র কৃষক। ক্রমাগত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের শস্য উৎপাদন করতে গিয়ে ক্রমবর্ধমান হারে রাসায়নি সার, কীটনাশক অন্যান্য কৃষি উপকরণের ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন খরচ এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস, পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ সমস্যায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়ছে। একক ফসলের চাষ বৃদ্ধির ফলে ফসল চাষের ঝুঁকিও দিন দিন বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে মানবস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেও মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন।
এ দেশের কৃষি উৎপাদন খরচ পৃথিবীর সর্বোচ্চ। কৃষি উপকরণের উচ্চ মূল্যের কারণে কৃষি আর পূর্বের ন্যায় লাভজনক নয়। সার, সেচের জ্বালানি, কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্যের কম মূল্য কৃষিকে অলাভজনক করে তুলেছে। কৃষকের আয় ও কৃষিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমছে। আগে দেখা যেত কৃষকরাই বীজ তৈরি করত তাদের চাহিদা অনুযায়ী। এখন বীজের জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকতে হয়। কৃষির অন্যান্য উপকরণগুলোর অবস্থাও একই রকম। পরনির্ভরশীল কৃষকরা আজ তাই অসহায়।
আবহমানকাল থেকেই এ দেশ ছিল বিদেশি শাসনাধীন। আর তাই তো স্বাধীনতার পূর্বের ক্ষমতাসীন বিদেশি শক্তি এ দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে স্বাভাবিকভাবেই অবজ্ঞার চোখে দেখেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে স্বাধীনতার পর আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী দরিদ্র কৃষকের স্বার্থ রক্ষার কার্যকরভাবে আত্মনিয়োগ করেনি। বরং তারা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং বিভিন্ন দাতাদেশ ও সংস্থার চাপে দেশি-বিদেশি করপোরেশনের স্বার্থে কাজ করেছে এবং করে যাচ্ছে। আর দেশের পিছিয়ে পড়া কৃষক জনগোষ্ঠী রয়েছে বলির পাঠার ভূমিকায়। বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্যের বেড়াজালে পড়ে কৃষককুল দিশেহারা। বাণিজ্য উদারীকরণের নামে বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্যিক আগ্রাসনের নির্মম শিকারে পরিণত হলেও এর স্বরূপ উপলব্ধি করার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞানেরও যথেষ্ট অভাব রয়ে গেছে এ দেশের কৃষকদের মধ্যে। এমতাবস্থায় এই কঠিন সংকট মোকাবিলা করতে হলে দেশের কৃষকদেরই উঠে দাঁড়াতে হবে। নতুন করে গড়ে তুলতে হবে এক স্বনির্ভর ও দায়িত্বশীল কৃষিব্যবস্থা। পাশাপাশি সরকারের সুদৃষ্টি একান্তভাবে কাম্য।
কারণ কৃষকের দিকে তাকানোর মতো কারো সময় পরিলক্ষিত হচ্ছে না। হাহাকার আর হতাশা যেন তাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের উৎপাদিত পণ্যে তারা কখনোই সুফল ভোগ করতে পারছে না। মধ্যস্বত্বভোগীরা তাদের ফায়দা লুটে নিচ্ছে। অনেক দিন থেকে সবজির বাজারে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন যেন কোনোক্রমেই নেভানো যাচ্ছে না। নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যেরও একই অবস্থা। পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিনিয়ত মূল্য বাড়িয়েই চলেছে। এগুলো কঠোর হাতে দমন করার মতো যেন কেউ নেই। সবাই আছে যার যার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। বাজার ঘুরে দেখা যায় ৬০-৭০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যায় না। হাত বদলের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিগুণ-তিন গুণ কখনো আবার চার গুণ দাম বেড়ে যায়। অথচ যারা এই পণ্য উৎপাদন করছে, অর্থাৎ এ দেশের কৃষককুল, তাদের লোকসান দিয়ে এই পণ্যগুলো বিক্রি করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। মুনাফালোভী মধ্যস্বত্বভোগীদের কালো থামায় চিঁড়ে চ্যাপ্টা হচ্ছে উৎপাদক ও বৃহত্তর ক্রেতাগোষ্ঠী। কোনো কিছুতেই যেন কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না তারা। এর শেষ কোথায় তাও জানে না। দুঃখের সঙ্গে বলতে ইচ্ছা করে, বৃহত্তর উৎপাদক ও ক্রেতাগোষ্ঠীর আর্তি শোনার মতো কি কেউ নেই? মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফার লাগাম টেনে ধরা এবং শক্ত হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ আজ সময়ের দাবি। আশা করি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক
ই-মেইল : mmotalibd2k@yahoo.com

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.