দাদির দেওয়া লাল পরী -এম এ মোতালিব

মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে আছে জবেদা বেগমের। কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। শহরে চার দেয়ালে বন্দিজীবন তার অসহ্য লাগছে। এভাবে একঘেয়ে সময় কিভাবে কাটায় মানুষ! অসামাজিক কোনো প্রাণীও তো এভাবে জীবন কাটায় না। এখানে প্রতিবেশীর খবর নেওয়া তো দূরের কথা, প্রতিবেশীকে কেউ চিনেই না বলা চলে। একই বাড়িতে পাশাপাশি বাস করে কেউ কাউকে চেনে না, কেউ কারো সঙ্গে কথা বলে না। এটা কোনো মনুষ্য জীবন হলো নাকি! ওই দিন সন্ধ্যায় তার ছেলে সহিদ গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকছে। এমন সময় তার সঙ্গে আরেকজন ঢুকতেই তাকে প্রশ্ন করল-
কোথায় যাবেন, ভাই?
আমি দোতলায় থাকি প্রায় ছয় মাস হলো।
ও আচ্ছা।
এতটুকুই তাদের পরিচয়, কথা। জবেদা বেগম ব্যাপারটি লক্ষ্য করে তাজ্জব হলো। মনে মনে ভাবতে লাগল, আল্লারে আল্লাহ! ছয় মাস একই বাড়িতে থাকে, অথচ কেউ কাউকে চেনে না, জানে না। এটা কোন সমাজরে বাবা! নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হলেও তো পরিচয়টা থাকা দরকার প্রতিবেশীর সঙ্গে। সেটারও প্রয়োজন বোধ করে না কেউ! তাহলে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে কিভাবে এরা? কিভাবে একজন আরেকজনের বিপদে এগিয়ে আসবে? পাশাপাশি অবস্থান করে যদি চেনা-পরিচয়, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা না থাকে, তাহলে এ রকম কাঠখোট্টা পরিবেশে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াও অনেক ভালো। এ ধরনের কাণ্ড-কারখানা তাকে আরো বেশি অসুস্থ করে তোলে মানসিকভাবে। আর কিছু দিন থাকলে হয়তো দম বন্ধ হয়ে মরেই যাবে-সারাক্ষণ এসব ভাবনা ভেবে সময় পার করছে জবেদা বেগম। জীবনের প্রায় আশিটি বছর অজপাড়াগাঁয়ে কেটেছে তার। সারা গ্রামে টই টই করে ঘুরে বেড়ানো যার নিত্য দিনের অভ্যাস, পাড়ার এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি না গেলে যার পেটের ভাত হজম হয় না, তার ইট-কাঠ-পাথরে ঘেরা কৃত্রিম শহুরে বন্দিজীবন ভালো লাগবে কী করে!
ছেলে সহিদ শহরে চাকরি করে। সেই সুবাদে সপরিবারে শহরেই থাকে তারা। ছেলের মুখ না দেখলে ভালো লাগে না, নাতি-নাতনিদের দেখতে মন ছটফট করে জবেদা বেগমের। তাই তো মাঝেমধ্যে শহরে আসে তাদের দেখতে। দু-চারদিন থেকে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এবার এসেছে প্রায় মাসখানেক গত হতে চলল। এখন তার প্রতিটি ক্ষণ কাটছে শ্বাস বন্ধ হওয়া অবস্থায়। মনে মনে বিড়বিড় করে বলে, দম বন্ধ হয়ে আসা গুমোট পরিবেশে কতক্ষণ আর থাকা যায়? বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। সিদ্ধ বেগুনের মতো শরীরের চামড়াগুলো কুঁচকে গেছে তার। সারাটা জীবন কাটিয়েছে গ্রামে। সেখানকার মুক্ত হাওয়া গায়ে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর যে তৃপ্তি, শহরে সেটা কল্পনাও করা যায় না। তা ছাড়া গ্রামের পরিবেশ আর এখানকার পরিবেশের মধ্যে বিস্তর ফারাক। সেখানে সে কারো জেঠি, কারো চাচি, কারো ফুফু, কারো দাদি-নানি। যেদিকে যায় সবই আপন মনে হয়। সবাই তাকে সমীহ করে, সম্মান করে, ভয়ও পায়। গ্রামের বউ-ঝিরা সবাই তাকে দেখে তটস্থ। ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে দাদি-নানি বলতে পাগল। বিকেল হলেই সবাই ছুটে আসে তার কাছে। সন্ধ্যা অবধি সময় কাটে তাদের রূপকথার গল্প শুনে। বলতে গেলে তাদের নিয়েই সারা দিন কেটে যায় জাবেদা বেগমের। গ্রামের প্রতিটি বাড়িই তার আপন বাড়ি। প্রতিটি বাড়ির মানুষই তার আপনজন। পুরো গ্রামটা যেন ভরে আছে তার সন্তান আর নাতি-পুতিতে।
কিন্তু শহরের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে পাশাপাশি বাস করেও কেউ কাউকে চেনে না, জানে না, এমনকি জানার প্রয়োজনও বোধ করে না। একেবারে যেন কাঠখোট্টা পরিবেশ। এটা তাকে খুব অবাক করে, কষ্ট দেয়, মন অস্থির করে তোলে। কখনো কখনো উদাস দৃষ্টিতে বারান্দার গ্রিল ধরে আনমনে বাইরে তাকিয়ে থাকে জাবেদা বেগম। দূরের আকাশ কখনো দেখা যায়, কখনো দেখা যায় না উঁচু উঁচু দালানের ভিড়ে। কত দিন চাঁদ দেখে না। চাঁদের আলোয় সাঁতার কাটে না। আকাশের তারাগুলো যেন অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে নিয়ন বাতির ভিরে। পুরো বাসাটাই তার কাছে কারাগার কারাগার মনে হয়। যদিও কারাগার কখনো দেখেনি সে। তবে লোকমুখে শুনেছে, সেখানে সারাক্ষণ দম হওয়া পরিবেশ। জদুর কাছে শুনেছে কারাগারের কিছু কাহিনী। সে একসময় নামকরা ডাকাত ছিল। ভিনগ্রামে গিয়ে ডাকাতি করত। মাঝেমধ্যে ধরা পড়ত। প্রথম প্রথম উত্তম-মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিত, কখনো আবার হাতকড়া পরে জেলের ভেতর ঢুকিয়ে দিত। ছাড়া পেয়ে এসে গল্প করত। জেলের বন্দিজীবনের গল্প খুবই মর্মান্তিক, কষ্টদায়ক।
সে যা-ই হোক, কারাগারের বাসিন্দারা না হয় অপরাধের শাস্তি ভোগ করে সেখানকার গুমোট পরিবেশে বাস করে। কিন্তু সে তো কোনো অপরাধী নয়। সে তো কোথাও চুরি-ডাকাতি করেনি! তাহলে সে কেন বন্দিজীবন কাটাবে! এ রকম একঘরে জীবন কাটানো সত্যি দুঃসাধ্য! কৃত্রিম, সবই কৃত্রিম মনে হয় তার কাছে। আলো, বাতাস, পানি সবই। প্রকৃতির আলো-বাতাস যেন তাকে কালেভদ্রেও ছুঁতে পারে না। গ্রামে সবুজ মাঠের পাশ দিয়ে মেঠো পথে হেঁটে চলা, আর বুক ভরে প্রাকৃতিক পরিবেশে নিঃশ্বাস নেওয়া কখনো কল্পনাও করা যায় না। তাই মন ছুটে যায় গ্রামে। চোখের সামনে ভেসে উঠে সবুজ ধান ক্ষেত, গ্রামের পাশ দিয়ে কুল কুল করে বয়ে চলা খরস্রোতা নদী। বিকেলে হিমেল হাওয়া, রাখালিয়া বাঁশির সুর, লাল শাড়ি পরে লম্বা ঘোমটা দিয়ে মেঠোপথ ধরে নব বধূর আগমন, গ্রামের নব বিবাহিত ছেলেদের তেলচুপচুপে মাথায় লাল মোজা আর নাগড়া জোতা পায়ে গলা মাফলার পেঁচিয়ে বগলে রেডিও বগলে নিয়ে পানমুখে কছিমউদ্দিনের ভাওয়াইয়া গান শুনতে শুনতে শ্বশুরবাড়িতে গমন, গৃহস্থবাড়িতে ঢেঁকিতে ধান ভানার ধাপুরধুপুর শব্দ, নবান্নে উঠানভরা সোনালি ধানের স্ত‚প, ধানের আঁটি কাঁধে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে কৃষকের ঝুমুর ঝুমুর শব্দে পথ চলা, রাস্তার দুই ধারে বাঁশের আড়ায় প্রখর রোদে ঝুলে থাকা সোনালি আঁশখ্যাত পাট, খালবিল, পুকুর পাড়ে ঝুঁটি বেঁধে শুকাতে দেওয়া রুপালি পাটখড়ি, বিলের পানিতে দলবেঁধে ভেসে বেড়ানো হাঁসের ঝাঁক, পদ্ম আর শাপলা ফুলের হাসি, হাজারো পাখির কিচিরমিচির শব্দ, আরো কত স্মৃতি। এসব ভাবনা ভাবতেই মন ছুটে যায় জীবনানন্দের রূপসী বাংলার সেই প্রত্যন্ত গ্রামে। তাই তো এই কয় দিনেই জবেদা বেগমের মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে উঠেছে। কেউ ভালো কথা বললেও মেজাজটা বিগড়ে যায় তার। এখানে যন্ত্রচালিত জীবনে অভ্যস্ত সবাই। শহরে কোনো বাচ্চাকে শোনানো হয় না ঘুমপাড়ানি গান। দেখানো হয় না জুজু বুড়ির ভয়। আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যাÑবলে কোনো বাচ্চাকে ছন্দের তালে তালে ঘুম পাড়ানো হয় না। কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে ঝাকানাকা সুর শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে, আবার কুচেমাছের মতো শরীর মোচড়ানো নাচের শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে। রূপকথার গল্প আর পাতালপুরীর রাজকন্যার কিসসা এখানে কেউ শোনে না। বড় একা একা লাগে। তার নাতি-নাতনি দুটোর অধিকাংশ সময় কাটে কম্পিউটারের সামনে বসে, আর ইয়ারফোন লাগিয়ে মোবাইলে গান শুনে। ইদানীং যোগ হয়েছে এনড্রয়েট ফোন। গেম, ফেসবুক, ইউটিউবে দেশি-বিদেশি বন্ধুবান্ধবীর সঙ্গে আড্ডা। নাতি-নাতনি দুটো কখনো তার ধারে-কাছে আসে না। তারা তাদের আধুনিক জগৎ নিয়েই ব্যস্ত থাকে সারাক্ষণ। বড় একা লাগে জবেদা বেগমের। এভাবে একা একা আর কতক্ষণ থাকা যায়। কিছুক্ষণ বিছানায় শুয়েছিল জবেদা বেগম। কিন্তু কিছুতেই ভালো লাগছিল না তার। তাই তো পাশের কামরায় গেল তার নাতি রাতুল কী করছে দেখার জন্য। ঢুকেই দেখল রাতুল একা একা বসে মোবাইল ফোন টিপছে আর খিলখিল খিলখিল করে হাসছে। পড়াশোনা বাদ দিয়ে কী করছে সে? কাছে যেতেই মোবাইলটা লুকিয়ে ফেলল রাতুল।
দাদু, কিছু বলবে?
নারে ভাই, ভালা লাগে না।
তাহলে শুয়ে থাকো।
শুইয়াই তো আছিলাম। কেমুন যেনি একা একা লাগে। তাই ভাবলাম তর সাথে এট্টু গল্প করি।
আমি তো গল্প করছিই দাদু।
রাতুলের কথা শুনে এদিক-ওদিক তাকায় জবেদা বেগম। কিন্তু কাউকে খুঁজে পায় না। ভাবে, তবে কি তার সাথে জিনের আছড় আছে? গ্রামে দেখেছে হামিদের বাবা তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে জিন-পরিকে বশ করে রাখত। নিরিবিলি থাকলেই তাদের সাথে গল্প করত। কবিরাজিও করত তাদের দিয়ে। কিন্তু রাতুলও কি তাই করছে!
তর এহানে কাউরে তো দেহি না ভাই। তাহলে তুই কার সাথে গল্প করস।
এই যে আমার বন্ধুদের সঙ্গে। মোবাইল দেখিয়ে বলল রাতুল।
গভীর হতাশার মধ্যেও ফিক করে একটু হেসে ফেলল জবেদা বেগম।
ওটার মইধ্যে বুঝি তোর বন্ধুরা?
ও তুমি বুঝবে না দাদু। আমি ফেসবুকে গল্প করছি।
রাতুলের কথা শুনে থ হয়ে যায় জবেদা বেগম। মনে মনে ভাবে, যারে দেখা যায় না, তারে বুঝি ফ্যাস বুক কয়। গলা ছেড়ে ডাকেÑ
ও বউ মা, বউ মা, কই গ্যালা গো? দ্যাখো দেখি, তোমার পোলাডা মনে হয় উচ্ছন্নেই গ্যাল। সারাবেলা দেখি শুধু মোবাইল টিপে আর কী যেন দ্যাখে। মাঝেমধ্যে খলখল খলখল কইরে হাসে। জিগাইলে কয় ফ্যাস বুকে গল্প করছে। ওর কি পড়ালেহা নাই? আশি বছর পেরোনো খুনখুনে বুড়ি থুত্থুরে গলায় বলল।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বুড়ির দুই পাটিতে একটিও দাঁত অবশিষ্ট নেই। কাঁপা কাঁপা গলায় কথা বলে। সারাক্ষণ মনটা চায় নাতি-নাতনি দুটোকে কাছে কাছে রাখতে, তাদের পড়ালেখার খোঁজখবর রাখতে। মাঝেমধ্যে রূপকথার গল্প শোনাতে। কিন্তু তারা তাকে কোনো সময়ই দেয় না। যখন যা মন চায়, তাই করে তারা। তার পরও নাতি রাতুল আর নাতনি রায়না চোখের আড়াল হলে অস্থির হয়ে পড়ে, আবার তারা পড়ালেখার অনিয়ম করলে শাসনেরও অন্ত থাকে না তার। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
রাতুল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে আর রায়না পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। আম্মুর কাছে দাদুর এই অভিযোগের কথা শুনে রাতুল বলল,
আচ্ছা দাদু, আম্মুর কাছে আমার নামে বিচার দেওয়া ছাড়া তোমার বুঝি আর কোনো কাজ নেই!
অ্যাই হতচ্ছাড়া, কী কইলি? পড়ালেহা বাদ দিয়া হারাবেলা মোবাইল টিপাটিপি করাই বুঝি তর কাম?
আঃ দাদু! আমি তো পড়া শেষ করেই ফেসবুকে ঢুকছি।
কী বুকে ঢুকছস?
ফেসবুক, ফেসবুক। বিড়বিড় করে বলল, বুড়িটা কিচ্ছু বোঝে না।
আমারে পাগল পাইছস, না? আমি দেখছি তুই দিব্বি মোবাইল টিপছস। আর আমারে কস ফ্যাসবুক!
আঃ দাদু, বললাম তো তুমি ওসব বুঝবে না।
কী, আমি বুঝমু না? তুই বুঝি সব বুঝোস?
এমন সময় ঘরে ঢুকল নাতনি রায়না। দাদুকে জড়িয়ে ধরে বলল,
ও দাদু, তুমি আমার সঙ্গে চলো।
কোনখানে যামু তোর সাথে?
ওমা! এখনই সব ভুলে গেলে? তুমি কাল রাতে আমাকে কী বলেছিলে?
রায়নাকে কাছে টেনে নিয়ে রাতুলের বিছানার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
কী কইছি, আমার এট্টুও মনে পড়ছে নারে দাদুভাই?
যাও, তুমি ভুলোমনো। তোমার সঙ্গে আমার আড়ি। এ কথা বলে গাল ফোলাল রায়না। পাশ থেকে রাতুল বলল,
আমার নামে বিচার দেওয়ার কথা ঠিকই মনে থাকে।
অ্যাই, তুই চুপ কর।
কেন চুপ করব, অ্যা! খুব তো বলো, আমরা ছোটবেলা এ করেছি, সে করেছি, এখানে গেছি, সেখানে গেছি, বাঁদরের মতো গাছে ঝুলেছি, নদীতে সাঁতার কেটে দুই চোখ লাল করে ঘরে ফিরেছি। আরো কত কী। তোমরা ছোটবেলা টইটই করে ঘুরে বেরিয়েছ। তখন তোমাদের কেউ বারণ করেছে? আমাদের সে সুযোগ কোথায়? তোমাদের তো তখন কেউ বাধা দেয়নি। আর আমরা একটুও ঘরের বাইরে যেতে পারি না। একা একা বাইরে যাওয়া যাবে না, এটা করা যাবে না, সেটা করা যাবে না। সারাক্ষণ শুধু না আর না। আবার মোবাইলে গেম খেললে, ফেসবুক চালালেও তোমাদের গা জ্বালা করে। তাহলে আমরা কী করব বলো তো?
ফোকলা দাঁতে দাদি হেসে বলল,
অ্যাই শোন দাদাভাই, তোর স্কুল বন্ধ কবে হবে?
স্কুল বন্ধ দিয়ে তুমি কী করবে?
অ্যাই তো, সামনের মাসেই গ্রীষ্মের ছুটি। পাশ থেকে রায়না বলল।
এই ছুটিতে তোগোর দুই ভাই-বইনরে গেরামে নিয়া যামু। আজকে বাবা অপিস থেকে আইলেই তারে কমু।Ñনাতি-নাতনি দুজনকে কাছে টেনে নিয়ে সোহাগের সুরে বলল জবেদা বেগম।
থাক, আর আদর করতে হবে না। একটু আগেই তো আমার নামে আম্মুর কাছে বিচার দিলে। আর এখন কাছে টানছ!
রাগ করিস না দাদু ভাই। হারাবেলা একা একা থাকি তো। ফা-পু-ড় করে! তাই…
ও দাদু, তুমি সত্যি বলছ? দাদুর গলা জড়িয়ে ধরে রায়না বলল।
হ রে দাদুভাই, সত্যই কইছি।
আব্বুর তো ছুটি নেই, আম্মুরও অফিস আছে। তারা তো আমাদের যেতেই দেবে না। হতাশার সুরে বলল রাতুল।
তোর ছোট চাচারে আইতে কইছি। সে আইলেই তার সাথে আমরা যামু। তারবাদে তোর আব্বা-আম্মা সুময়মতো যাইয়া তোদের নিয়া আইব। তা ছাড়া আমিও তো কত্ত দিন অইল বাড়িত যাই না। তাগোর অনেক মনে পড়ে রে বইন। হেই কবে বাড়ির আমগাছ তলায় বইয়া কত কিসসা কইছি তোর চাচাতো ভাই-বইনদের নিয়া। হারাক্ষণ ওরা আমারে নিয়া কাউলাকাউলি করত, কাড়াকাড়ি করত। কইত, ও দাদি, আজকে তোমার হেই পাতালপুরির রাজকন্যার কিসসা কওনই লাগব। হেরা যে এহন কী করতাছে কেডা জানে। মাঝেমধ্যে মনডা উইড়া যায় তাগোর কাছে। আবার যহন গেরামের বাড়িত যাই, তহন তোদের জন্যে পরানডা আইঢাই করে।
ও দাদু, মন খারাপ করো না। এবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আমরা সব ভাই-বোন মিলে তোমার কাছে কিসসা শুনব। পাতালপুরির রাজকন্যা, লাল পরি, নীল পরি আরো কত কিসসা।
হ, তাই কমুনে, যা। আগে যাইয়া নেই। (চলবে)

১৬ জানুয়ারি ২০১৮/সত্যের সৈনিক/সুলতান মাহমুদ

Leave A Reply

Your email address will not be published.