আমরাই ধ্বংস করেছি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা

সত্যের সৈনিক অনলাইন : বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল বাংলাদেশে। আমরাই তা ধ্বংস করেছি। উন্নয়ন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার ফলে আমরা প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো তৈরি করেছি। এসব অবকাঠামো সাময়িক সমস্যার সমাধান দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করছে।  গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের ‘বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস’ শীর্ষক এক বিশেষ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ মিলনায়তনে এই সম্মেলনটির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবেশবিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্ক (বেন)।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ নয়, সহ-অবস্থান করতে হবে। আর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আমাদের স্থানীয় জ্ঞানকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন করতে হবে।

‘বন্যা, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধস’ শীর্ষক মূল অধিবেশনে প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেন-এর আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ষাটের দশকে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে বাংলাদেশের নদীগুলো নিয়ে মহাপরিকল্পনা করা হলো। ক্রুগ মিশন নামের ওই পরিকল্পনার আওতায় দেশের জলাভূমি ও নদীগুলোর প্রাকৃতিক বিন্যাস ধ্বংস করে ফেলা হয়। পরে ফ্ল্যাড অ্যাকশন প্ল্যান নিয়েও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সব উদ্যোগের কুফল আমরা এখন ভোগ করছি। কিন্তু তার পরও দেশের নদী-খাল ও জলাভূমিগুলোর আন্তসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। চট্টগ্রামের পাহাড়ধস ও রোহিঙ্গা শীর্ষক পর্বে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বসতির কারণে পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়। বক্তারা যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের তাদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। না হলে কক্সবাজারে পুরো প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে মরুকরণ শুরু হবে বলে মন্তব্য করেন।

বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, ভৌগোলিক অবস্থান থেকে সুস্পষ্ট ধারণাবিহীন বিদেশি পরামর্শক ও তাঁদের করা প্রকল্প এ দেশের প্রাকৃতিক সমস্যার সমাধান দেয়নি, বরং সমস্যা বৃদ্ধি করেছে বহু গুণে। ধ্বংস করেছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীবন-জীবিকা।

সম্মেলনে গতকাল ১০টি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও ২টি সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ড. আইনুন নিশাত, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদ, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ইকবাল হাবিব, অধ্যাপক বদরুল ইমামসহ গবেষক ও পরিবেশবাদীরা অংশ নেন।

আগামীকাল শনিবার দুই দিনের এই সম্মেলনের শেষ দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে আরও ৫টি সমান্তরাল বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, ২টি সাধারণ অধিবেশন, ১টি কৌশলগত অধিবেশন ও বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হবে। উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে মোট বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ৭০টি, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ওপর সামাজিক উপস্থাপনা রয়েছে প্রায় ২০টি।

১৩ জানুয়ারি ২০১৮/সত্যের সৈনিক/তুহিন রানা

Leave A Reply

Your email address will not be published.